ভবিষ্যতের সংখ্যালঘু হিন্দু

যুগলকৃষ্ণ পাল

পশ্চিম বঙ্গের ১০০ জন হিন্দু নেওয়া হলে তাদের চেহারাটা হবে মোটামোটি নিম্নরূপ:
৫০ টি বুড়ো +
৩০ টি আধবুড়ো +
২০ টি বাচ্চা = মোট ১০০ জন।

পক্ষান্তরে ১০০ জন মুসলিম নেওয়া হলে তাদের সম্ভাব্য চেহারা হবে এরূপ:
২০ টি বুড়ো +
৩০ টি আধবুড়ো +
৫০ টি বাচ্চা = মোট ১০০ জন।

উপরের দু’টি ক্ষেত্রেই মোট সংখ্যায় সমান (১০০) হলেও আসলে ওরা সমান নয়। কারণ, প্রকৃতির নিয়মে দু’পক্ষেরই প্রথমে বুড়োলোকগুলো মারা পরবে। তারপরে আসবে আধবুড়োদের পালা। অর্থাৎ প্রথম পক্ষের যখন ৫০ জন বুড়ো মারা যাবে দ্বিতীয় পক্ষের তখন মাত্র ২০ জন বুড়ো মারা যাবে।

অর্থাৎ দু পক্ষের সংখাটা আর সমান থাকবেনা। দু’পক্ষের সংখ্যাগুলো দাড়াবে নিম্নরূপ:
১ম পক্ষের লোকসংখ্যা হবে (১০০-৫০) জন বা ৫০ জন।
যেখানে দ্বিতীয় পক্ষের লোকসংখ্যা হবে (১০০-২০) বা ৮০ জন।

অতএব সময়ের সাথে সাথে দেখা যাবে দু’পক্ষের লোকসংখ্যা সমান থাকবে না। এটাই জনবিন্যাস পরিবর্তনের চরিত্র বৈশিষ্ট্য। আর এই পরিবর্তনটা ঘটে জ্যামিতিক অনুপাতে, গোদা বাংলায় বললে লাফিয়ে লাফিয়ে পরিবর্তন ঘটে।

পশ্চিম বঙ্গের বর্তমান হিন্দু : মুসলিম অনুপাতটি ৭:৩ ধরা হলে এবং এই অবস্থায় মুসলিম জন্মহার কমিয়ে এনে যদি হিন্দুর সমানও করা হয়, তাতেও পশ্চিম বঙ্গের হিন্দুর সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়া কেউ ঠেকাতে পারবেনা। তার একমাত্র কারণ মৃত্যুর হার সমান হবেনা। আশা করছি, নিচের গানিতিক উদাহরণ বিষয়টি পরিষ্কার করবে।

হিন্দু : মুসলিম অনুপাত = ৭(৫০+৩০+২০) : ৩(২০+৩০+৫০)
স্বাভাবিকভাবে দু’দলেরই প্রথমে বৃদ্ধদের মৃত্যু ঘটবে।
১ম পক্ষের (হিন্দুর) মৃত্যুর সংখ্যা = (৭×৫০) বা ৩৫০ জন।
২য় পক্ষের (মুসলিম) মৃত্যুর সংখ্যা = (৩×২০) বা মাত্র ৬০ জন।

সময় আরো এগোতে থাকবে এবং প্রকৃতির নিয়মেই আধবুড়ো লোকগুলো বুড়ো হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরবে। আধবুড়োদের মৃত্যুর সংখ্যাটা হবে নিম্নরূপ:

১ম পক্ষের (হিন্দুর) মৃত্যুর সংখ্যা= (৭×৩০) বা ২১০ জন।
যেখানে দ্বিতীয় পক্ষের (মুসলিম) মৃত্যুর সংখ্যা হবে = (৩×৩০) বা মাত্র ৯০ জন।

এবার দেখাযাক, ঘটনা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সব বুড়ো ও আধবুড়ো লোকের মৃত্যুর পর (এখানে ধরে নেওয়া হল যে এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষেই কোনো বাচ্চার জন্ম হয়নি অথবা মোট সমান সংখ্যক বাচ্চা জন্মেছে):

প্রথম (হিন্দু)পক্ষের মোট সংখ্যা = ৭(৫০+৩০+২০) – ৭(৫০+৩০) বা (৭০০-৫৬০) বা মাত্র ১৪০ জন।

দ্বিতীয় (মুসলিম) পক্ষের মোট সংখ্যা = ৩(২০+৩০+৫০) – ৩(২০+৩০) বা (৩০০-১৫০) বা ১৫০ জন।

অর্থাৎ তখন অনুপাতটি হবে নিম্নরূপ :
হিন্দু : মুসলিম = ১৪০ : ১৫০

অতএব দেখা যাচ্ছে হিন্দুর সংখ্যা হবে ১৪০ জন যেখানে একই সময়ে মুসলিম সংখা হবে ১৫০ জন।

তাই, পশ্চিম বঙ্গে হিন্দুর সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়া ভবিতব্য হয়ে আছে, যেখানে মুসলিম সংখা হিন্দু সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ১৯৫১ সালের জনগননায় পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তারপরের ৭০ বছর ধরে এলো হিন্দু উদ্বাস্তু। কিন্তু তাতেও রাজ্যে হিন্দুর অংশ বাড়াতো দূরে থাক তা ৮০ শতাংশ থেকে কমতে কমতে ৭০ শতাংশ হয়ে গেছে।
কোন যাদুতে এটা সম্ভব হয়েছে যে টানা সাত দশক ধরে পূর্ব পাকিস্তান / বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হিন্দুরা এসে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর সাথে যুক্ত হয়েছে, তা সত্যেও পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যায় হিন্দুর অংশ /শতাংশ বাড়লো না, উল্টে কমে গেল? এ কোন ম্যাজিক?

(লেখকের মতামত একান্ত নিজস্ব)

ধর্মনিরপেক্ষতা: মিথ্যাচার ও ভন্ডামি

দেবতনু ভট্টাচার্য

একবার মিথ্যার জাল বোনা শুরু করলে সেই জালে নিজেই জড়িয়ে পড়তে হয়। ভারতের রাজনীতিতে ‘সেকুলারিজম’ হলো সবথেকে বড় একটা মিথ্যা। হিন্দু বহুল ভারতে সেকুলারিজমের শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে অপ্রয়োজনীয়। যারা সেকুলারিজমের ধ্বজাধারী, তারাও এটা জানে। আসলে এই শব্দটার আড়ালে সীমাহীন মুসলিম তোষণটাই এদের মূল লক্ষ্য। ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলনের সময় মোহনদাস গান্ধীর হাত ধরে যে মুসলিম তোষণের যাত্রা শুরু হয়েছিলো, চিত্তরঞ্জন দাসের বেঙ্গল প‍্যাক্টের মধ্য দিয়ে এই বাংলায় সেই মিথ্যাচারের পরম্পরা নিজের গতিপথ ধরে আজও এগিয়ে চলেছে। বাঙালি আর সেই ভণ্ডামি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে নি। সেই জালে জড়িয়ে পড়েই বাঙালি তার সর্বস্ব খুইয়েছে।

১৯০৫ থেকে ১৯১১, বৃটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য যখন মধ্যগগনে, আমরা বঙ্গভঙ্গ রোধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ১৯৪৭ এ বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির জয় হলেও শক্তিক্ষয়ের ফলে যখন বৃটিশদের কোমর ভেঙে গেছে, তখন আমরা দেশভাগ মেনে নিলাম! এর মূল কারণ তোষণনীতিতে বিশ্বাসী কংগ্রেসের নেতৃত্ব তখন মুসলমানদের সামনে নতজানু এবং তাদের প্রচারিত ‘এক‌ই বৃন্তে দু’টি কুসুম’- এর জড়িবুটি খেয়ে হিন্দু সমাজ তখন হিন্দু-মুসলিম ভাইচারার খোয়াব দেখছে। তারা বিশ্বাস করতো যে গান্ধী-নেহেরু থাকতে দেশভাগ হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র থেকে শুরু করে প্রান্তিক লাঙ্গলধরা হিন্দু কিংবা আঁশবঁটি হাতে হিন্দু- কেউই মন থেকে এই হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস না করলেও গান্ধী-নেহেরুর তোষণবাদী কংগ্রেস‌ই ছিলো সার্বিকভাবে হিন্দু সমাজের আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণ হিন্দুরা ভারতের স্বাধীনতা লাভের লড়াইয়ের দৌড়ের ব্যাটন কংগ্রেসের হাতে তুলে দিয়েই নিশ্চিন্ত ছিলো। সেই কংগ্রেস হিন্দুদের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে পাকিস্তানের দাবি মেনে নিলো। বাংলা ভাগ হলো, বাঙালির জীবনে নেমে এলো বিপর্যয়। শ্যামাপ্রসাদ লড়েছিলেন বাঙালির জন্য। পাকিস্তানের বুক চিরে বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের রূপকার শ্যামাপ্রসাদের হাতে স্বাধীনতার পর এই এক তৃতীয়াংশ বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বিশ্বাসঘাতক কংগ্রেসের হাতেই ক্ষমতা তুলে দিলো এই বাঙালি!!

দেশভাগের সময় যে কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান ছিল – পাকিস্তানের দাবি মানতে হবে, তবেই ভারত স্বাধীন হবে, সেই কমিউনিস্ট পার্টি ওই বাংলায় (পড়ুন তাদের আকাঙ্খিত পাকিস্তানে) অবলুপ্ত হয়েছে কিন্তু এই বাংলায় ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় আসীন থেকেছে। ওপার বাংলা থেকে পাকিস্তানের সমর্থক এই রিফিউজি কমিউনিস্টরা মুসলমানের লাথি খেয়ে এখানে এসে নেতামন্ত্রী হয়েছে আর ওপার থেকে মুসলমানের লাথি খেয়ে এপারে আসা রিফিউজি বাঙালি সমাজ এই পাকিস্তানের দালালদের দুহাত ভরে ভোট দিয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির সরকার এই রিফিউজিদের ভোটার কার্ড দিয়েছে, রেশন কার্ড দিয়েছে কিন্তু এদের নাগরিকত্বের জন্য আন্দোলন সংগঠিত করে নি। এরা সেইভাবে চায়‌ও নি তাদের এই প্রাপ্য মর্যাদা। দীর্ঘ ৩৪ বছরে শাসন ক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করে সিস্টেমেটিক ব্রেনওয়াশের মাধ্যমে বাঙালি উদ্বাস্তুদের মন থেকে একটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রশ্নকে একেবারে মুছে ফেলেছে। সেই প্রশ্নটা হল – আমরা কেন উদ্বাস্তু হলাম!!

২০১১-র পরের ঘটনাবলী না হয় নাই বা বললাম। ইমাম ভাতা দেওয়া, ওবিসি (এ) ক‍্যাটাগরিতে প্রায় ১০০% মুসলমানকে সংরক্ষণের আওতায় আনা, দুধেল গাইয়ের লাথ খেতে থাকা যে আমাদের জাতীয় কর্তব্য – সেটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার এখন সেকুলারিজমের মূর্ত প্রতীক। বাঙালির ভোটেই কিন্তু এই সরকার তার দ্বিতীয় ইনিংস খেলছে। সম্প্রতি রাজ্যের উপনির্বাচনে বাঙালি এই সরকারের পক্ষেই ভোট দিয়েছে।

নাগরিকত্ব আইন এনেছে মোদি সরকার। এর ফলে তাদের বহু আকাঙ্খিত নাগরিকত্ব পাবে কয়েক লক্ষ অত্যাচারিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত, অপমানিত বাঙালি। অথচ এই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তাণ্ডব শুরু হয়েছে এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেই। পশ্চিমবঙ্গের সরকার ঘোষণা করেছে এরাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু হবেনা। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এই আইনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে কয়েকজন বাঙালি। তারা জনপ্রতিনিধি। তারা কি চায় না বাঙালি উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পাক? ঠিক তা নয়, তাদের দাবি মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের‌ও নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। তা না হলে হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়া এই আইন বাতিল। ঠিক যেন ‘৪৬ এর কমিউনিস্ট পার্টির সেদিনের স্লোগান- ‘পাকিস্তানের দাবি মানতে হবে, তবেই ভারত স্বাধীন হবে’ আজ নতুন রূপে- ‘অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের নাগরিকত্ব দিতে হবে, তবেই বাঙালি উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পাবে’! চোখে সেকুলারিজমের চশমা। তাই এদের দৃষ্টিতে পাকিস্তানের দাবিদার বাংলার কসাই সুরাবর্দী কিংবা গোলাম সারোয়ারদের উত্তরসূরী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী মুসলমান আর ভারতের স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদানকারী মাস্টারদা সূর্যসেন, বিনয়-বাদল-দীনেশ কিংবা বাঘাযতীনের উত্তরসূরী হিন্দু উদ্বাস্তুরা সমান! এ তো ধর্মনিরপেক্ষতা নয়! এ হল বাঙালির সর্বনাশের বীজমন্ত্র!!

এত কথার অবতারণা কেন? কারণ একটা প্রশ্ন আজ খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রশ্নটা হল, আমরা বাঙালিরা জেনে বা না জেনে সেকুলারিজম নামক যে মিথ্যার জালে জড়িয়ে পড়েছি, তাকে ছিন্ন করে আমরা কি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো? আমরা কি চিরকাল ভণ্ড‌ই থাকবো? আমরা কি আজও ‘ব্রেকিং ইন্ডিয়া ফোর্স’ এর হাতেই নিজেদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভাগ্যকে সমর্পিত করে দু’টাকা চালের পিছনে কিংবা একটা ইন্দিরা আবাসের পিছনে ছুটতে থাকবো? এই প্রশ্নের জবাব আমাকে নয়, মোদি-শাহ’কেও নয়, নিজের বিবেককে দিতে হবে।

CAA ও খিদে

অর্ণব কোলে

ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়ার পর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ভারত গঠিত হয়। এরপর ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল কাশ্মীর থেকে সমস্ত হিন্দুদের মেরে, মা-বোনদের ধর্ষণ করে, মন্দির ভেঙ্গে,বাড়ি-ঘর লুঠ করে ৬-৭ লাখ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উদ্বাস্তু করা হয়। secular টুকরো ভারতে হিন্দু নিজের মাতৃভূমিতে refugee হলো। সব থাকার পরেও, সব হারিয়ে জন্মু আর দিল্লির ফুটপাতে পড়ে থাকতে হলো; সেদিন কেউ ট্রেন-বাস পোড়ায়নি। কেউ পুলিশের উপর গুলি-বোমা ছোঁড়েনি। কোনো কবি, ইতিহাসবিদ, লেখক মাইনরিটির জন্য কিছু ত্যাগ করেনি। কোনো ইউনিভার্সিটির ছেলেরা মিছিল করেনি। কারণ? কারণ হিন্দুর জীবন হলো গরু-ছাগলের জীবন। কতোগুলো কাটা গেল তাতে কী?

এবারে কেউ উদ্বাস্তু হয়নি। কিন্তু প্রগতিশীলরা গর্ত থেকে বেরিয়েছে।বলছে উদ্বাস্তু হতে পারে। হয়নি। কিন্তু হতে তো পারে ! তাই আগুন জ্বলছে।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তানে ক্রমাগত হিন্দু মরেছে। মুসলমানের হাতে মরেছে। ধর্মের কারণে মরেছে। যে জাতি অতীতে ইহুদী,পার্সিসহ সমস্ত নিপীড়িত জাতির মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে; সেই জাতি যখন পাশের দেশে উদ্বাস্তু হয়েছে, নিজের স্বাধীন দেশে উদ্বাস্তু হয়েছে আমার দেশে আগুন জ্বালেনি। কেন জ্বলেনি? কারণ হিন্দুর জীবন গরু-ছাগলের জীবন।

তিব্বতের দলাই লামা এবং তার প্রায় ২-৩ লাখ বৌদ্ধ অনুগামী যখন দেশের নাগরিকত্ব পায় বা শুধু উগান্ডার মুসলিমরা যখন নাগরিকত্ব পায়, তখন কেউ বলেনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের হিন্দুদের নাগরিকত্ব দাও‌। কেন বলেনি? কারণ হিন্দুর জীবন গরু-ছাগলের জীবন ।

এই দেশে সহিষ্ণু শুধু হিন্দু। অন্য ধর্মটির স্বার্থে এক চিলতে পরিমাণ আঘাত লাগলে তারা দাঁত-নখ বার করে। দাঁত-নখ বের যাতে না করে তাই তাকে ক্রমাগত তোষণ করতে হয়। নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষা (মাদ্রাসা শিক্ষা), কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন (শরিয়া আইন) , হজের জন্য সাবসিডি, ইমামদের ভাতা, এয়ারপোর্টে নামাজ পড়ার জায়গা, খাবারকে মন্ত্র পড়ে শুদ্ধ করার জন্য অন্য ধর্মের মানুষদেরকেও ট্যাক্স দিতে হয় (হালাল মাংস)। এতো কিছুর পরেও তাদের লালসার গহ্বর পূর্ণ হয়? বা তারা সন্তুষ্ট হয়? হয় না। সংখ্যায় একটু বেশি হলেই অন্য ধর্মকে গিলে খায়। ইরানে পার্সি, আফগানিস্তানে বৌদ্ধ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দু এবং টুকরো স্বাধীনতার পর কাশ্মীরের হিন্দুদের গিলে খেয়েছে। এদের খিদে মিটবে কিসে?

যাক গে সে কথা। “হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই”।
মাঝে মাঝে শুধু ভূমি সংস্কার চাই।

আমরা আর ওরা

সৌভিক দত্ত

প্রত্যেকটা দিন একই গতানুগতিক ভাবে কেটে যাচ্ছে।
প্রত্যেকটা নিষ্ফল অথচ ঘটনাবহুল দিন

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠি, হাত মুখ ধুই‚
অলস হাতে খুলে দিই নেটের দুনিয়া।
ফোনের স্ক্রিন জুড়ে থাকে নেকড়েদের জান্তব উল্লাসের চিহ্ন।
আমাদের স্ট্যাটাসগুলো একে একে বদলে যায় ওদেরই সাথে‚
কখনো স্ট্যাটাস আসে ইসলামপুর নিয়ে, কখনো দেগঙ্গা, কখনো মেটিয়াবুরুজ,
কখনো উলুবেড়িয়া – সন্তোষপুর;
আর কখনো বা হতভাগ্য রোহিত তাঁতী।

ছোটখাটো দু’একটা মার্ডার হলে ছোটোখাটো একটা স্ট্যাটাস ছাড়ি‚
বড় কিছু ঘটলে হয়তো বা বড় একটা রচনাবিশেষ ।

ফেসবুকে হোয়্যাটস্যাপে হুঙ্কার ছাড়ি‚ বদলা নেবো। ভুলছি না। থামবো না।
লাইক, শেয়ার আর কমেন্টে প্রশংসার বহরে ভেসে যাই এরপর!
দারুণ বলেছো ভাই।
সাথে আছি ভাই।
সাবধানে থেকো ভাই।

তারপর পালে পালে এগিয়ে আসে দু’পেয়ে শুয়োরেরা –
আসলেই এমন ঘটেছে তো নাকি সবই অমিত শাহের চাল?
সত্যিই জেহাদীরা মেরেছে তো? শুনলাম ভেতরে নাকি পরকীয়াঘটিত কেস ছিলো?
কোথায় কে মরছে তা নিয়ে এত লাফালাফি কিসের?
আহা! মানলাম এইভাবে মারা ঠিক হয়নি
কিন্তু লোকটা নাকি আর এস এস করত‚ এটা কি ঠিক?
বাংলায় কেরল দাওয়াই শুরু হয়ে গেছে‚ চাড্ডিরা এবার সাবধানে থাক‚ কাউকে ছাড়া হবেনা।
না এটা কোনো জেহাদী আক্রমণ না‚ এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণমানুষের অভ্যুত্থান!

এইভাবেই শুয়োরের সাথে লড়তে গিয়ে রাস্তা থেকে কাদায় নেমে পড়ি।
হুঁশ ফিরলে নিজেকে খুঁজে পাই কাদার মধ্যে চতুষ্পদদের জান্তব উল্লাসের মাঝে।
ওরা একটা মানুষকে ওদের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে‚ তাই উল্লাস।

রাষ্ট্রের কাছে মিনমিন করে গিয়ে বলি, বাঁচান আমাদের!
রাষ্ট্র ভুরু কুঁচকে বলে, সংখ্যাগুরুদের একটা দায়িত্ব আছে তো‚ নাকি?

সরকারের কাছে গিয়ে আব্দার জানাই, বিচার চাই।
সরকার চোখ রাঙ্গিয়ে বলে, প্রতিবাদ করছ? ফেসবুকে লোক জানাচ্ছ? আচ্ছা দাড়াও ইন্টারনেট বন্ধ করি আগে।

বিরোধীদের কাছে মিনমিন করে গিয়ে বলি, কিছু একটা করুন।
বিরোধী দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে এসো গান্ধী সংকল্প যাত্রায় এসো‚ একজনের গলায় কোপ খেলে অন্যজন গলা বাড়িয়ে দিতে শেখো।

লালপার্টির কাছে গিয়ে বলি‚ বাঁচান আমাদের‚ আমরা ধর্মান্ধদের হাতে আক্রান্ত।
ওরা একসাথে উত্তর দেয়‚ ঘোৎ ঘোৎ ঘোৎ!

মিডিয়ার কাছে ছুটে যাই! ছুটে যাই বুদ্ধিজীবীদের কাছে । দুহাত জোড় করে বলি‚ আমাদের কথাও মাঝেমধ্যে বলুন মানুষকে!
দুজনে একসাথে লেজ নেড়ে বলে ওঠে‚ পেট্রোডলারের বিনিময় মূল্য কত জানিস এখন?

জনগণের কাছে মিনমিন করে গিয়ে বলি, প্রতিবাদ করুন।
তারা চোখ উল্টে বলে প্রয়োজনই বা কি ওদের সাথে ঝামেলা করার? জানো না ওদের রক্ত গরম?

জেনে আমি উৎফুল্ল হই। জ্ঞানের বহরে আমার ওজন বাড়ে।
আর ফোন হাতে তুলে আবার হুঙ্কার ছাড়ি।
প্রতিবাদ চলবে‚
দ্বিতীয় নোয়াখালী হতে দেবোনা।
আমার মাটি আমার মা‚
আরবী উর্দুর হবেনা।

তারপর রাতের বেলা ভরপেট ভাত খেয়ে ঘুমাতে যাই।

পরদিন ঘুম থেকে উঠি, হাত মুখ ধুই
অলস হাতে খুলে দিই নেটের দুনিয়া।
ফোনের স্ক্রিন জুড়ে থাকে নেকড়েদের জান্তব উল্লাসের চিহ্ন।
হয়তো বা নিজের অলক্ষ্যেই একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি আমি এখনো অক্ষত আছে দেখে।
তারপর লিখতে শুরু করি
কখনো ইসলামপুর নিয়ে, কখনো দেগঙ্গা, কখনো মেটিয়াবুরুজ,
কখনো উলুবেড়িয়া – সন্তোষপুর
আর কখনো বা হতভাগ্য রোহিত তাঁতী…

( বিদেশী কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত)

CAB নিয়ে অল্প কিছু কথা

প্রণয় রায়

আমি মিশ্র এলাকার মানুষ। ওপার আর এপারের লোক এখানে পাশাপাশি থাকে। তাই, CAB কেন দরকার সেটা আমি খুব ভাল করেই জানি। আমি যে এলাকাতে থাকি, সেখানকার ৭০-৮০ % মানুষ কোন না কোন সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে এখানে বসবাস করছে। ১৯৭১ সাল অব্দি রিফিউজি হিসবে বা বিনিময়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছে। পরবর্তীতে যারা এসেছে সকলেই বিভিন্ন ভাবে অবৈধ উপায় অবলম্বন করে নাগরিক হয়েছে। কেও অন্যকে বাবা মা সাজিয়ে, কেও কাউকে ঠাকুরদাদা সাজিয়ে, নেতাদের ধরে, সরকারের আধিকারিকদের মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে, কেউ বা আত্মীয়স্বজন থাকলে তাদের সাহায্যে। কেউই সরকারের কাছে আবেদন করে হয়নি, কেননা সেরকম উপায় ছিল না সেভাবে। ফলে এত মানুষ এখানে নাগরিকত্ব পেল, তার প্রমান ভারতের সরকারের কাছে নেই। আবার বাংলাদেশের থেকে অত্যাচারিত হয়ে এসেছে, তার জন্য বাংলাদেশের সরকারকেও লজ্জায় পড়তেও হয়নি, প্রশ্নের মুখেও পড়েনি আজ অব্দি। কিন্তু ৩২% থেকে সেখানে ৮% এ নেমে এলো হিন্দু জনসংখ্যা। কি অদ্ভুত না??

অনেকেই ভাবছে যে করেই হোক নাগরিক তো হয়েছে, তাহলে নতুন করে আবার কিসের নাগরিকত্ব দেবে?? এখানেই মজা লুকিয়ে আছে… সরকারের বিভিন্ন দফতর নথিপত্র দেখলে ঠিক বুঝতে পারে, কে প্রকৃত নাগরিক, কে অবৈধ ভাবে এসেছে। সেজন্য প্রতিনিয়ত এদেরকে মোটা টাকা নিয়ে ঘুরতে হয়। এখানে এসে ক্লাস এইট বা নাইনে ভর্তি হবে, আগের পড়াশোনার নথি নেই, দাও স্কুল কমিটিকে ঘুষ। প্রাইমারি স্কুলের নকল সার্টিফিকেট বানাও, দাও সেখানে ঘুষ। এগুলো কখনো ৫ হাজার থেকে ২০-৩০ হাজার অব্দি হয়ে যায়। এখানেও নিস্তার নেই, বানাও নকল বার্থ সার্টিফিকেট সেখানেও এরকম ঘুষ। তারপরে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড করতেও একই রকম ঘুষ দিয়ে যেতে হবে। কেননা সবাই জানে এরা অবৈধ ভাবে নাগরিক হয়েছে। কারোও বিরুদ্ধে কিচ্ছু বলার উপায় নেই এদের। এরপর সরকারি চাকরি পাওয়া বা পাসপোর্ট বানাতে গেলে পড়তে হবে DIB র খপ্পরে, সেখানেও চার্জটা কারও কারও ৩০-৪০ হাজার অব্দিও পৌছিয়ে যায়, ন্যূনতম ৫ হাজার। ঠিকমতো না হলে তারা বার্থ সার্টিফিকেট উক্ত পঞ্চায়েতে, স্কুল সার্টিফিকেট স্কুলে রিভিউ করতে পাঠাবে। অতোদিনে আগের কমিটির পরিবর্তন হয়েছে। তাই সেখানেও দাও আবার ঘুষ। এতো কিছুর পরেও এদের মনে ভয় কাটেনা। কোনও ডিপার্টমেন্টর বিরুদ্ধে আঙুল তুলতে পারেনা। এভাবেই নাগরিক হয়েও অত্যাচারিত হতে হয় এদের প্রতিনিয়ত।

এবার CAB আসছে। এরা আবেদন করে, সার্টিফিকেট নিয়ে স্বগর্বে মাথা উঁচু করে বলবে “আমরা ভারতের নাগরিক। ” শুধু তাই নয়, আবেদনের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই চাপে পড়বে বাংলাদেশ সরকার। এতোদিন পৃথিবীর অন্যদেশ জানতোই না এই গোপন অত্যাচারের কথা। ভারতে গোপনে নাগরিক হয়ে, এরা চিৎকার করে সেকথা জানাতে পারেনি ভয়ে। ভারতের কোনও সরকার, কোন রাজনৈতিক দল এদের হয়ে গলা ফাটায়নি আজ অব্দি। না বাংলাদেশের কোনও মানবতাবাদী সংগঠন পাশে দাড়িয়েছে এদের। এবার সকলে জানবে…. এই পরিস্থিতিটা কলকাতা বা বর্ডার এলাকা থেকে দূরে বসবাস করা মানুষেরা বুঝবে না কোনও দিন…

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯

স্মৃতিলেখা চক্রবর্ত্তী

নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-কে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারা দুবার সংশোধনের প্রচেষ্টা করা হয়। প্রথমটি “নাগরিকত্ব সংশোধনী বিধি ২০১৬” এবং দ্বিতীয়টি “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯”। এই ২০১৬-র নাগরিকত্ব সংশোধনী বিধি অনুসারে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিক হবার পদ্ধতি ছিল খুবই জটিল। এতটাই সমস্যাজনক ছিল যে এই বিষয়ক যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট রায় দেয় যে এর ফলে মাত্র ৩১,৩১৩ জন মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। সেই প্রথম সংশোধনীর সরল বঙ্গানুবাদ আগের পর্বে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম সংশোধনীর এই সব জটিলতা ও সমস্যা এড়াতেই নতুন ভাবে দ্বিতীয় সংশোধনীর খসড়া তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীকে প্রথম সংশোধনীর তুলনায় অনেকটাই ত্রুটিমুক্ত বলা যায়। তবুও, অহেতুক বিতর্কের মুখে পড়েছে সদ্য পাস হওয়া “নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন ২০১৯”। এই সংশোধনী বিষয়ে সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা অবসানের লক্ষ্যে ভারত সরকারের নিজস্ব সংবাদপত্রে প্রকাশিত আইনটির সরল বাংলা অনুবাদ নীচে দেওয়া হল। কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব সংবাদপত্র “দি গেজেট অফ ইন্ডিয়া”-তে এটি প্রকাশ করেছেন ভারত সরকারের সচিব ডাঃ জি. নারায়ণ রাজু।

তবে আইনটি পড়ার আগে কয়েকটি বিষয়ে একটু পরিষ্কার ধারণা করে নেওয়া দরকারী। এই আইনে “স্বাভাবিকী করণ”-এর (naturalization) কথা বলা হয়েছে। “স্বাভাবিকী করণ” হল সেই সব মানুষের জন্য যারা এই দেশের আইনানুগ নাগরিক নন কিন্তু বহু বছর ধরে এই দেশেই রয়ে গেছেন। এবং এতদিন ধরে এই দেশে থাকতে থাকতে এদেশের জল-মাটি-রাজনীতির সাথে স্বাভাবিক সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান-এর ধর্মীয় সংখ্যালঘু যেসব মানুষ ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৪-র আগে থেকে ভারতেই রয়ে গেছেন; তাদেরকে “স্বাভাবিকী করণ”-এর ন্যায্য অধিকার দিতেই এই আইন। শুধু তাইই নয়, এই সব মানুষেরা সেইদিন থেকেই ভারতের নাগরিক বলে বিবেচিত হবেন, যেদিন তারা ভারতে প্রবেশ করেছেন।

এছাড়া এই আইনে “অন্তর্বতী সীমা” (inner line) অঞ্চলের কথাও বলা আছে। অন্তর্বর্তী সীমা অঞ্চলে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। এই অঞ্চলগুলি ভারত সরকার দ্বারা বিশেষ ভাবে সুরক্ষিত কিছু অঞ্চল। এসব অঞ্চলে ঘুরতে যেতেও যে কোন সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের “ইনার লাইন পারমিট” (ILP) নামক বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া “ভারতের বহিঃ-নাগরিক” বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে বিদেশে বসবাসরত সেইসব মানুষদের কথা, যারা বর্তমানে বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ভারতে বসবাস এবং কাজ করার ক্ষেত্রে এঁরা বিশেষ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন।

আইন ও বিচার মন্ত্রক

নতুন দিল্লী, ১২ ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২১শে অগ্রহায়ণ ১৯৪১ (শকাব্দ)

নিম্নলিখিত সংসদীয় আইনটি ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছে এবং সেটি সাধারণ তথ্যের জন্য প্রকাশিত হল।

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯

২০১৯-এর ৪৭ নম্বর

[১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯]

নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-কে পুনরায় সংশোধনের লক্ষ্যে এই আইন।

(সংক্ষিপ্ত শিরোনাম এবং ভূমিকা)

ভারতীয় গণরাষ্ট্রের ৭০ তম বর্ষে সংসদ দ্বারা প্রণীত হোক যে:-

১। (১) এই আইনটিকে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯ বলা যেতে পারে।

(২) কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের নিজস্ব সংবাদপত্রে নির্দেশিকা জারির দিন থেকেই এই আইনটি বলবৎ হবে।

(২ নম্বর ধারার সংশোধনী)

২। নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-র (এরপর থেকে মূল আইন হিসেবে উল্লেখিত) ২ নম্বর ধারার (১) নম্বর উপধারায় (খ) শর্তে, নিম্নলিখিত নিয়ম যুক্ত করা হল। যেগুলি হল-

আফগানিস্তান, বাংলাদেশ অথবা পাকিস্তানের কোন হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান মানুষ, যারা ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৪ র আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, এবং যাদেরকে কেন্দ্র সরকার দ্বারা কিংবা পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন ১৯২০-র ৩ নম্বর ধারার (২) উপধারায় (গ) শর্তে অথবা বিদেশি আইন ১৯৪৬-এর নিয়ম প্রযুক্ত করে বা এদের অন্তর্ভুক্ত কোন নিয়ম বা আদেশ জারি করে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে এই আইনের আওতায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।

(৬খ নামক নতুন ধারার অন্তর্ভুক্তি)

৩। মূল আইনের ৬ক ধারার পরে নিম্নলিখিত ধারাটি যুক্ত করা হল। যেগুলি হল:-

৬খ। (১) কেন্দ্র সরকার বা তাঁদের নির্দেশিত কোন অধিকারী, কেন্দ্র সরকারের হয়ে, এই বিষয়ের নির্দিষ্ট উপায়, শর্ত, বিধিনিষেধ মেনে, এই বিষয়ে আবেদনের ভিত্তিতে, সেই সব মানুষদের নথিভুক্তির শংসাপত্র বা স্বাভাবিকী করণের শংসাপত্র দিতে পারেন, যাদের ব্যাপারে ২ নম্বর ধারার (১) নম্বর উপধারায় (খ) শর্তে উল্লিখিত নিয়মে নির্দেশ দেওয়া আছে।

(২) ৫ নম্বর ধারায় উল্লেখিত শর্ত পূরণ হলে বা তৃতীয় ভাগে উল্লিখিত নিয়ম অনুসারে স্বাভাবিকী করণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে, যে মানুষটি নথিভুক্তির শংসাপত্র পেয়েছেন বা (১) নম্বর উপধারা অনুসারে স্বাভাবিকী করণের শংসাপত্র পেয়েছেন, তাঁরা সেদিন থেকেই ভারতের নাগরিক বলে বিবেচিত হবেন, যেদিন তারা ভারতে প্রবেশ করেছেন।

(৩) নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন ২০১৯ জারি হবার দিন থেকেই কোন মানুষের বিরুদ্ধে এই ধারায় বর্ণিত নাগরিকত্ব বা অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চলা যে কোন মামলা তার নাগরিকত্ব প্রাপ্তির দিন থেকেই বাতিল হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য যে সেই মানুষটি এই ধারায় নাগরিকত্বের আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই কারণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না যে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে অথবা কেন্দ্র সরকার বা তাঁদের নির্দেশিত সরকারের হয়ে কাজ করা কোন অধিকারী এই কারণে কারো আবেদন বাতিল করবেন না যদি দেখা যায় যে এই ধারা অনুসারে বাকি সমস্ত ক্ষেত্রে সেই মানুষটি নাগরিক হবার যোগ্য।

আরো উল্লেখ্য যে এই ধারা অনুযায়ী যে মানুষটি নাগরিকত্বের আবেদন করছেন, ঐ আবেদন গৃহীত হবার তারিখের আগের থেকে সেই মানুষটি যে সব সুবিধা এবং অধিকার ভোগ করছিলেন, এই আবেদন করার জন্য, সেগুলি থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।

(৪) এই ধারায় বর্ণিত কোন কিছুই সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে উল্লিখিত আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরার উপজাতি অঞ্চলে এবং বঙ্গীয় পূর্ব সীমান্ত বিধেয়ক ১৮৭৩-এ নির্দেশিত “অন্তর্বর্তী সীমা” অঞ্চলে প্রযুক্ত হবে না।

(৭ঘ ধারার সংশোধনী)

৪। মূল আইনের ৭ ঘ ধারাতে,-

(১) শর্ত (ঘ) এর পর, নিম্নলিখিত শর্তটি সংযুক্ত করা হল, যেগুলি হল:-

“(ঘক) ভারতের বহিঃ-নাগরিক পত্রের ধারকরা যদি এই বিধির কোন নিয়ম বা ওই সময়ে প্রচলিত কেন্দ্র সরকার কর্তৃক নিজস্ব সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা নির্দেশিত অন্য কোন আইন লঙ্ঘন করে থাকেন; অথবা”;

(২) শর্ত (চ) এর পরে নিম্নলিখিত নিয়মটি সংযোজিত হল, যেগুলি হল:-

“যতক্ষণ না ভারতের বহিঃ-নাগরিক পত্র ধারকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথোপযুক্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই ধারার বলে কোন আদেশ জারি করা যাবে না।”

(১৮ নম্বর ধারার সংশোধনী)

৫। মূল আইনের ১৮ নম্বর ধারার (২) নম্বর উপধারায় (গগ) শর্তের পরে নিম্নলিখিত শর্তটি যুক্ত হবে। যেগুলি হল:-

(গগঝ) নথিভুক্তির শংসাপত্র বা স্বাভাবিকী করণের শংসাপত্র দেবার শর্ত, বিধিনিষেধ ও উপায় ৬খ ধারার (১) নম্বর উপধারা অনুসারে

(তৃতীয় ভাগের সংশোধনী)

৬। মূল আইনের তৃতীয় ভাগের (ঘ) শর্তে, নিম্নলিখিত নিয়ম সংযুক্ত হল, যেগুলি হল:-

“বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে, উক্ত শর্তের হিসেবে, ভারত সরকারের অন্তর্গত বাস বা চাকরির গড় প্রমান, “এগারো বছরের কম নয়” এর বদলে “পাঁচ বৎসরের কম নয়” হিসেবে পড়তে হবে।”

(মূল ইংরেজি থেকে সরল বাংলায় অনূদিত)

নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী কেন প্রয়োজন?

দেবাশীষ রায়

কয়েকবছর আগে, তখন আমি সল্টলেকে পোস্টেড, অফিসের কাছেই রাস্তার ধারে একজন বয়স্ক ভদ্রমহিলা একটি অস্থায়ী চায়ের দোকান চালাতেন, দোকানে চা, ডিমটোস্ট এসব পাওয়া যেত, আমি রোজকার টিফিন ওখানেই করতাম। মোটামুটি আলাপ পরিচয় হওয়ার পরে জানতে পারি ওনারা পূর্ব বাংলার, খুলনার সম্ভবত। তখনো জানতাম না ওদের ভারতের নাগরিকত্ব নেই, দুই ছেলে আর স্বামী নিয়ে সংসার, নাগরিকত্বের অভাবে সরকারি বেসরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা, কাজের সুযোগ, কিছুই ওনারা পান না, এসব জানলাম অনেকদিন পরে, যখন উনি একদিন আমাকে বললেন কি হয়েছিল।

বছর দশেক আগের ঘটনা, মানে তখনকার হিসেবে 2002-03 হবে, বাংলাদেশে বাড়ির লাগোয়া জমি নিয়ে পাশের বাড়ির কোনো এক মুসলমান প্রতিবেশীর সাথে ওনাদের ঝামেলা লাগে, সে নেতাগোছের লোক ছিল। একদিন সেই লোক ওনার স্বামীকে রাস্তায় লোক জোগাড় করে বেধড়ক পেটায়, অভিযোগ করে ওনার স্বামী নাকি ইসলাম সম্বন্ধে কটূক্তি করেছেন। বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন বেশ কড়া, এসব কেসে এরেস্ট অনিবার্য, তার চেয়েও বেশি ভয় পাবলিক পিটিয়ে মেরে ফেলবে। যাইহোক, ভদ্রলোককে পুলিশ তুলে নেয়, সেদিনই রাত্রে কোনো একজন সহৃদয় পরিচিত ব্যক্তি, উনিও লোকাল মুসলিম নেতা, ওদের বলে যে আজ রাতেই হয়তো ভদ্রলোককে মেরে ফেলবে, যার সাথে ঝামেলা তার অনেক ক্ষমতা, তবে ওনার সোর্স আছে, ভদ্রলোককে ছাড়িয়ে সবাইকে লুকিয়ে গাড়ি করে বর্ডার পার করিয়ে দেবে, এনারা ইন্ডিয়াতে গেলে বেঁচে যাবেন। সেই রাতেই নিজের ভিটেমাটি, সর্বস্ব ছেড়ে ভদ্রমহিলা দুই ছেলেকে নিয়ে ওনার সাথে বেরিয়ে পড়েন, পুলিশের গাড়ি লুকিয়ে ওনার স্বামীকেও নিয়ে আসে, এবং ওই লোকই ব্যবস্থা করে এনাদের মাঝরাতে বর্ডার পার করিয়ে দেয়, তারপর থেকে এনারা এখানেই। মহিষবাথানের দিকে ভাড়া থাকেন, ওই চায়ের দোকান, খুচরো কাজকর্ম, এসবেই দিন চলে।

জিজ্ঞেস করেছিলাম, ওনার স্বামী কি সত্যিই ইসলাম নিয়ে খারাপ কিছু বলেছিলেন? বললেন বাংলাদেশে ওসব সত্যিকরে বলতে লাগেনা, কারুর বলার সাহসও নেই, ওদেশে কেউ আঙ্গুল তুলে এরকম অভিযোগ করে দিলেই যথেষ্ট বিপদ। জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারপরে কোনোদিন ওনার বাংলাদেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন কিনা, বললেন সেটা সম্ভব নয়, পুলিশ কেস হয়তো এখনো আছে, তাছাড়া ওই লোকগুলোও যে আছে!
আরেকটা বেয়ারা প্রশ্ন করেছিলাম; যিনি সাহায্য করেছিলেন, গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে বর্ডার পার করিয়েছিলেন, সেও যে ওনার জমি বাড়ি হাতানোর দলেই ছিলেন না জানলেন কি করে..? দেখলাম সে ব্যাপারে উনিও নিশ্চিত নন, তবে বললেন যে সেটা হলেও কিছু করার নেই, এমনিতেও উনি না বললেও এনাদের পালাতেই হত, আর কোনো উপায় ছিলোনা।

সল্টলেকে ওনার দোকানটা ধিরে ধিরে বেশ ভালো করেই করেছিলেন, বাঁশ, ত্রিপল আর দরমার বেড়ারই দোকান, তবে বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্নই ছিল, কিন্তু একদিন পুলিশ সল্টলেকের সব অস্থায়ী দোকান ভেঙে দেয়, ওনার দোকানও ভাঙা পরে। তার কিছুদিন বাদে উনি ওখানেই আবার দোকান দেন বটে, তবে এবারে আর মাথার উপরে ত্রিপল ছিলোনা, শুধু একটা বেঞ্চি আর একটা বড় ছাতা নিয়েই আবার জীবিকার খোঁজে বসেছিলেন। ওনার আর অন্য উপায়ই বা কি ছিল!

আজ যখন নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে এত বিরোধ হচ্ছে, এই এমেন্ডমেন্ট বাতিল করার দাবি উঠছে, দাবি উঠছে বাংলাদেশি মুসলমানদেরও একই নাগরিক অধিকার দেওয়ার, তখন আমার এই মানুষগুলোর কথা মনে পড়ছে! এই মানুষগুলো, এনাদের মত আরো অনেক অনেক মানুষ, যাদের আজ ওদেশেও ঠাঁই নেই, আর এদেশেও ন্যূনতম নাগরিক অধিকারটুকুও নেই, আক্ষরিক অর্থেই যাদের আজ নিজের দেশ বলে কিছু নেই, তারা কি আর কোনোদিনই নিজের দেশ পাবেন না!

দেশভাগের পাকেচক্রে যারা সীমান্তের ভুল দিকে গিয়ে পরেছিলেন, একটা ন্যক্কারজনক ধর্মীয় মৌলবাদ সত্তর বছর আগের এক মধ্যরাত্রে যাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল, সেই মানুষগুলো কি চিরকাল নেই মানুষ হয়েই থেকে যাবেন? একটা ঐতিহাসিক অন্যায়, যার জন্য এই মানুষগুলো দায়ীও নয়, তার মাশুল এনারা আরো কতদিন গুনবেন? আমার দেশকে তো এনাদের ফেলে আসা সম্পত্তি পাইয়ে দিতে হবে না, জমি বাড়িও দিতে হবে না, শুধু এই দেশকে নিজের দেশ বলার অধিকারটুকু, সেটুকু দিতেও কি আমার দেশ অপারগ? এইটুকু দিতেও এত বিরোধ, এত আগুন?

নাকি এই মানুষগুলোকে এইটুকু দিতে গেলে যারা এনাদের এই অবস্থার জন্য দায়ী, যারা এনাদের ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে, দেশছাড়া করেছে, অনেকক্ষেত্রে ধর্ষণ করেছে, খুনও করেছে, বাংলাদেশের, পাকিস্তানের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকগুলোকেও একই সাথে ভারতের নাগরিকত্ব দিতে হবে? সেই লোকগুলোকে আবার নতুন করে এনাদের প্রতিবেশী করতেই হবে? কেন? ওই লোকগুলোর দাবি মত আলাদা দুটো নতুন দেশ, সেটাই কি যথেষ্ট নয়?

নির্যাতিত আর নির্যাতনকারীর কি সমান অধিকার হবে? সেটাই কি হওয়া উচিত? সেটা কি সুবিচার? অন্ধ রাজনৈতিক বিরোধকে সরিয়ে রেখে এই প্রশ্নগুলো করার সময় আজ এসেছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ২০১৬

স্মৃতিলেখা চক্রবর্ত্তী

গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে যে কোন বিধি-কে আইনে রূপান্তরিত হতে গেলে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়। প্রথমে সংসদের উভয় কক্ষ অর্থাৎ লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পাস হতে হয়। তারপর তাতে রাষ্ট্রপতির সই লাগে। এরপর ভারত সরকারের নিজস্ব সংবাদপত্র “দি গেজেট অফ ইন্ডিয়া”-তে এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া মাত্রই উক্ত বিধি আইনে পরিণত হয়।

শ্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীত্বে কেন্দ্র সরকার কর্তৃক নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ র সংশোধনীর প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালে। সেই বিধি ৮ই জানুয়ারি ২০১৯ এ লোকসভায় পাস হলেও, রাজ্যসভায় পাশের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপরে গত ৯ই ডিসেম্বর ২০১৯ এ, আরো কিছু পরিবর্তনের পর সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯।

একই নামের বিধি দু রকম ভাবে দুবার পাস করার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে বেশ কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তাই ২০১৬ এবং ২০১৯, দুটি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিধি-র সরল বাংলায় অনুবাদ করা হল। প্রথম ধাপে রইল ২০১৬-র সংশোধনীর অনুবাদ। মূল ইংরেজি বিধি-র সূত্র নীচে উল্লেখিত।

২০১৬ সালের বিধি নম্বর ১৭২ গ

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিধি, ২০১৯

বিধি

নাগরিকত্ব বিধি, ১৯৫৫ কে পুনরায় সংশোধনীর লক্ষ্যে

ভারতীয় গণতন্ত্রের ৬৯ তম বর্ষে সংসদে গৃহীত হোক যে –

(সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও ভূমিকা)

১। (১) এই বিধিকে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিধি, ২০১৯ বলা হবে
(২) এই বিধি সেইদিনই আইনে পরিণত হবে, যেই দিন কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে নিজস্ব সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।

(২ নং ধারার সংশোধনী)

২। নাগরিকত্ব বিধি, ১৯৫৫-র (এরপর থেকে “মূল বিধি” হিসেবে উল্লিখিত) ২ নং ধারার (১) নং উপ-ধারায়, অংশ (খ) এর পরে, নিম্নলিখিত নিয়মগুলি যুক্ত করা হল। এগুলি হল:-

“বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলি অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান; যাদেরকে কেন্দ্র সরকার দ্বারা অথবা পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন ১৯২০-র ৩ নম্বর ধারার ২ নম্বর উপধারার (গ) শর্ত বা বিদেশি আইন, ১৯৪৬ এর শর্ত দ্বারা অথবা এই বিষয়ক অন্য কোন আদেশ জারির দ্বারা ছাড় দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে এইসব আইনের কার্যকরী ক্ষেত্রে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।

যেই দিন থেকে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিধি ২০১৯, আইনে পরিণত হবে, প্রথম শর্তে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর কোন মানুষের বিরুদ্ধে ওই শর্তে বর্ণিত আইন বলে চালিত যে কোন মামলা খারিজ হয়ে যাবে এবং উক্ত মানুষটি ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী স্বাভাবিক নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।”

(৭ ঘ ধারার সংশোধনী)

৩। মূল বিধির ৭ ঘ উপধারাতে,-

(১) শর্ত (ঘ) এর পর, নিম্নলিখিত শর্তটি সংযুক্ত করা হল, যেগুলি হল:-

“(ঘক) ভারতের বহিঃ-নাগরিক শংসাপত্রের ধারকরা যদি এই বিধির কোন নিয়ম বা ওই সময়ে প্রচলিত কেন্দ্র সরকার কর্তৃক নিজস্ব সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা নির্দেশিত অন্য কোন আইন লঙ্ঘন করে থাকেন; অথবা”;

(২) শর্ত (চ) এর পরে নিম্নলিখিত নিয়মটি সংযোজিত হল, যেগুলি হল:-

“যতক্ষণ না ভারতের বহিঃ-নাগরিক শংসাপত্র ধারকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথোপযুক্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই ধারার বলে কোন আদেশ জারি করা যাবে না।”

(তৃতীয় ভাগের সংশোধনী)

৪। মূল বিধির তৃতীয় ভাগের (ঘ) শর্তে, নিম্নলিখিত নিয়ম সংযুক্ত হল, যেগুলি হল:-

“বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে, উক্ত শর্তের হিসেবে, ভারত সরকারের অন্তর্গত বাস বা চাকরির গড় প্রমান, “এগারো বছরের কম নয়” এর বদলে “ছয় বৎসরের কম নয়” হিসেবে পড়তে হবে।”

(মূল ইংরেজি থেকে সরল বাংলায় অনূদিত)

Blog at WordPress.com.

Up ↑

Design a site like this with WordPress.com
Get started